শৃঙ্খলামূলক শাস্তি: অনুমোদিত ধরন, এবং ১৫ দিনের মধ্যে আপত্তি জানানোর অধিকার

৬ মিনিট পড়া ধারা ৬৬-৭৩

সংক্ষিপ্ত উত্তর

যেকোনো শৃঙ্খলামূলক শাস্তি দেওয়ার আগে আপনাকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে এবং লঙ্ঘন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে, এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর অধিকার আপনার রয়েছে।

🔨 শুধুমাত্র এই শাস্তিগুলোই অনুমোদিত — অন্য কিছু নয়

📜 ধারা ৬৬

"নিয়োগকর্তা কর্মীর উপর যে শৃঙ্খলামূলক শাস্তি আরোপ করতে পারেন: ১- সতর্কীকরণ। ২- জরিমানা। ৩- বোনাস থেকে বঞ্চিত করা বা এক বছর পর্যন্ত স্থগিত করা, যেখানে বোনাস নিয়োগকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত। ৪- পদোন্নতি এক বছর পর্যন্ত স্থগিত করা, যেখানে পদোন্নতি নিয়োগকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত। ৫- বেতন ছাড়া কাজ থেকে সাময়িক বরখাস্ত। ৬- আইনে নির্ধারিত ক্ষেত্রে চাকরি থেকে বরখাস্ত।"

📜 ধারা ৬৭

"নিয়োগকর্তা কর্মীর উপর এমন কোনো শাস্তি আরোপ করতে পারবেন না যা এই আইনে বা কর্মস্থলের প্রবিধানে উল্লেখ নেই।"

💡 আপনার চুক্তিতে লেখা থাকলেও

উপরোক্ত ছয় ধরনের মধ্যে না পড়া কোনো শাস্তি — আপনার চুক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিয়মে যাই লেখা থাকুক না কেন — অবৈধ এবং আপনার উপর প্রয়োগ করা যাবে না।

💰 একটি লঙ্ঘনের জন্য জরিমানার সীমা

📜 ধারা ৭০

"কর্মস্থলের বাইরে সংঘটিত কোনো কাজের জন্য কর্মীর উপর শৃঙ্খলামূলক শাস্তি আরোপ করা যাবে না, যদি না তা কাজ, নিয়োগকর্তা বা দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপকের সাথে সম্পর্কিত হয়। একটি লঙ্ঘনের জন্য পাঁচ দিনের বেতনের বেশি জরিমানা করা যাবে না, একই লঙ্ঘনের জন্য একাধিক শাস্তি দেওয়া যাবে না, জরিমানার জন্য মাসিক কর্তন পাঁচ দিনের বেতনের বেশি হতে পারবে না, এবং বেতন ছাড়া সাময়িক বরখাস্তের মেয়াদ মাসে পাঁচ দিনের বেশি হতে পারবে না।"

📌 চারটি সীমা যা আপনার জানা উচিত

একটি লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা: সর্বোচ্চ ৫ দিনের বেতন। প্রতি লঙ্ঘনে শুধু একটি শাস্তি (জমা হয় না)। জরিমানার মোট মাসিক কর্তন: সর্বোচ্চ ৫ দিনের বেতন। বেতন ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত: মাসে সর্বোচ্চ ৫ দিন।

📝 যেকোনো শাস্তির আগে বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া

📜 ধারা ৭১

"কর্মীকে লিখিতভাবে অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত করা, জিজ্ঞাসাবাদ করা, তার পক্ষ শোনা এবং তা তার ব্যক্তিগত ফাইলে রাখা একটি প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ করা ছাড়া কোনো শৃঙ্খলামূলক শাস্তি আরোপ করা যাবে না। ছোটখাটো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে যেখানে শাস্তি সতর্কীকরণ বা সর্বোচ্চ একদিনের বেতনের জরিমানার বেশি নয়, জিজ্ঞাসাবাদ মৌখিক হতে পারে, তবে তা প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ থাকতে হবে।"

📬 ১৫ দিনের মধ্যে আপত্তি জানানোর আপনার অধিকার

📜 ধারা ৭২

"কর্মীকে শাস্তি আরোপের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে; যদি সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বা অনুপস্থিত থাকে, তাহলে বিজ্ঞপ্তি তার ফাইলে উল্লিখিত ঠিকানায় নিবন্ধিত চিঠির মাধ্যমে পাঠানো হয়। চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্তের বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার তারিখ থেকে পনেরো দিনের মধ্যে — সরকারি ছুটির দিন বাদে — শাস্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর অধিকার কর্মীর রয়েছে। আপত্তি শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়, যাকে আপত্তি নিবন্ধিত হওয়ার তারিখ থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে তার সিদ্ধান্ত জারি করতে হবে।"

💡 কর্তৃপক্ষের নাম সম্পর্কে একটি নোট

ধারার লেখায় "শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ" উল্লেখ আছে, যা এই সংস্থার পুরনো নাম, একটি রাজকীয় আদেশ (নং A/2, তারিখ ২২/১/১৪৩৪হি) শ্রম আইনের ১৪ নং অধ্যায় বাতিল করার আগে যা এটি পরিচালনা করত। আজ এই ধরনের আপত্তি শ্রম আদালতে শোনা হয়, এবং ১৫ দিনের মধ্যে আপত্তি জানানোর একই অধিকার এখনও প্রযোজ্য।

⏳ নিয়োগকর্তার জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা

📜 ধারা ৬৯

"কোনো লঙ্ঘন আবিষ্কারের ত্রিশ দিনের বেশি সময় পরে কর্মীকে অভিযুক্ত করা যাবে না, এবং তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার ও লঙ্ঘন প্রমাণিত হওয়ার ত্রিশ দিনের বেশি সময় পরে শৃঙ্খলামূলক শাস্তি আরোপ করা যাবে না।"

📜 ধারা ৬৮

"পূর্ববর্তী লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি সম্পর্কে কর্মীকে অবহিত করার পর থেকে একশত আশি দিন অতিবাহিত হলে পুনরাবৃত্ত লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি কঠোর করা যাবে না।"

📒 জরিমানার রেজিস্টার: টাকা কোথায় যায়?

📜 ধারা ৭৩

"কর্মীদের উপর আরোপিত জরিমানা একটি বিশেষ রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে যাতে কর্মীর নাম, বেতন, জরিমানার পরিমাণ, তার কারণ ও তারিখ উল্লেখ থাকে। জরিমানা শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কল্যাণে এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরেই ব্যয় করা যাবে।"

সরকারি সূত্র
  • শ্রম আইন — ধারা ৬৬: অনুমোদিত শৃঙ্খলামূলক শাস্তি
  • শ্রম আইন — ধারা ৬৭: অনুল্লিখিত শাস্তির উপর নিষেধাজ্ঞা
  • শ্রম আইন — ধারা ৬৮: শাস্তি কঠোর করার উপর ১৮০ দিনের সীমা
  • শ্রম আইন — ধারা ৬৯: অভিযোগ ও তদন্তের জন্য ৩০ দিনের সীমা
  • শ্রম আইন — ধারা ৭০: মাসিক জরিমানা ও বরখাস্তের সীমা
  • শ্রম আইন — ধারা ৭১: শাস্তির আগে বাধ্যতামূলক তদন্ত প্রক্রিয়া
  • শ্রম আইন — ধারা ৭২: লিখিত বিজ্ঞপ্তি ও ১৫ দিনের মধ্যে আপত্তির অধিকার
  • শ্রম আইন — ধারা ৭৩: জরিমানার রেজিস্টার ও তহবিল ব্যবহার

সূত্র: সৌদি শ্রম আইন — ধারা ৬৬-৭৩

বিনামূল্যে আপনার পাওনা হিসাব করুন

কর্মী পোর্টাল ব্যবহার করুন, অথবা আপনার ভাষায় আইনি সহায়তাকে জিজ্ঞাসা করুন।